যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক দিয়ে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস হামলার পরিপ্রেক্ষিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে একতরফা পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ঠিক উল্টো।
রোববার রাতে লাস ভেগাসে কনসার্টে এক ব্যক্তির বন্দুক হামলায় কমপক্ষে ৫৯ জন নিহত হওয়ার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। তবে এখনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির অবস্থানও একই। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ রিপাবলিকানদের দখলে থাকায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিলেন ওবামা।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান সময় সময় পাল্টেছে। গত শতকের শেষ দশকে এবং এই শতকের প্রথম দশকে ট্রাম্প দূরপাল্লার রাইফেল এবং সামরিক ধাঁচের অস্ত্রের, যা থেকে একসঙ্গে অনেক গুলি করা যায়, তার ওপর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ছিলেন। ২০০০ সালে দ্য আমেরিকা উই ডিসার্ভ বইতে লেখেন, ‘আমি সাধারণত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে। তবে আক্রমণের জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা হতে পারে।’
২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটে একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় ২০ শিশুসহ ২৬ জন মারা গিয়েছিলেন। তখন প্রেসিডেন্ট ওবামা অস্ত্র বিক্রির ওপর আরও বিধিনিষেধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওবামার এই প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ২০১৫ সালে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জোরেশোরে প্রচারণায় নামেন ট্রাম্প। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির বেশ পরিবর্তন দেখা যায় তখন। ওই বছরের অক্টোবরে রিপাবলিকান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এক বিতর্কে ট্রাম্প বেশ দম্ভোক্তি করে বলেন, তিনি অনেক সময় অস্ত্র বহন করেছেন। তাঁর মতে, স্কুল, গির্জা ও সামরিক ঘাঁটির মতো স্থানকে অস্ত্রমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা ‘বিপর্যয়’ ডেকে এনেছে। কারণ এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানগুলো মানসিক ভারসাম্যহীনদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলতেন, তিনি (হিলারি) অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ির পক্ষে। নিজে ক্ষমতায় এলে সাড়ে পাঁচ কোটি অস্ত্রধারীর অধিকার রক্ষা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here